বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪

ঝড়ে লন্ডভন্ড ৩০ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, চালচুলোহীন অনেক পরিবার!
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪, ১২:০০ এএম | অনলাইন সংস্করণ
ঝড়ে লন্ডভন্ড ৩০ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, চালচুলোহীন অনেক পরিবার!

ঝড়ে লন্ডভন্ড ৩০ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, চালচুলোহীন অনেক পরিবার!

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা:

ফরিদপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে বেশ কয়েকটি গ্রামের দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছপালা। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের পিলার ভেঙে পড়েছে। পড়ে গেছে ঘরবাড়ি, উড়ে গেছে টিন।বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শুরু হয়ে ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চালায়। শুক্রবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার ৩০টি গ্রাম বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঝড়ে কোনো এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।জানা যায়, ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ১২টি গ্রামের ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বাড়ির বিদ্যুতের পিলার ভেঙে পড়েছে। পড়ে গেছে ঘরবাড়ি, উড়ে গেছে টিন।ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল বাজারের ১২টি ঘর, দরিসহ সহস্রাইল গ্রামের মোশারফ ফকির, সানোয়ার ফকির, সুমন ফকির, এনায়েত মোল্যা, মিজান মোল্যা, লিয়াকত মোল্যা, সামিউল শেখ, চাপখন্ড গ্রামের পরিমল বিশ্বাস, বিল্লাল শেখ, কবির খা, হাসেম মোল্যা, লিয়াকত মোল্যা, নাসিরের বাড়িসহ  ভুলবাড়িয়া, মাইটকুমরা গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রাম, কুমরাইল, কলিমাঝি, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া, জয়পাশা, তামারহাজি, চতুল ইউনিয়নের বড়গা বাজারের কয়েকটি ঘর ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার টাবনি, ফলিয়া, বারাংকুলা ও চরডাঙ্গা এলাকায় ঘরবাড়িসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী সহস্রাইল গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ তারেক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে বাড়ি থেকে বাজারের দিকে জরুরি ওষুধ কিনতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে বাতাস শুরু হলে মেঘের গর্জন হয়। মুহূর্তের মধ্যে উল্লোঘুল্লো বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। এ সময় সহস্রাইল স্কুল রোডে জামালের বাড়ির সামনে পঙ্কুজের আমগাছ, রেন্টিগাছ ভেঙে পড়ে। একটু হলেই আমার মাথার ওপরই গাছ পড়ার কায়দা। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। প্রায় এক ঘণ্টার ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ৫ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। ঝড়ে অনেক ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে।’
 
আলফাডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ঝড়ে বোয়ালমারীর সহস্রাইল বাজার থেকে আলফাডাঙ্গা সড়কে বড় কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে ছোটবড় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে আমরা গাছপালা অপসারণ করি। এই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’ শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, ‘সহস্রাইল বাজারের ১২টি ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বাজারের অনেক ঘরে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজসহ অন্যান্য মালামাল ছিল। শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নে প্রায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনও গাছে টিন বেঁধে রয়েছে এবং বিদ্যুতের পিলার ভেঙে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে গ্রামগুলো।’

চাপখন্ড গ্রামের গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে ঝড়ে আমার বাড়ির তিনটি ঘর তছনছ করে গেছে। বাড়িতে এমন একটি ঘরও নেই যেখানে আমরা ঘুমাবো। খোলা আকাশের নিচে ঘুমানো ছাড়া উপায় নেই। ঘরে থাকা চাল, ডালসহ মালামাল ব্যবহারের মতো কিছুই নাই।’ওই গ্রামের বাসিন্দা পরিমল বিশ্বাস বলেন, ‘আমার বাড়িতে ঝড়ে ৩টি ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরের মধ্যে থাকা পাট ও পিয়াজ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমার।’সহস্রাইল বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাজারের ১০-১২টি ঘর একেবারেই ভেঙে গেছে। ঘরগুলোর চালের টিন ঝড়ে উড়ে গিয়ে গাছে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের পাট ও পিয়াজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’


ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোর্শেদুর রহিম জানান, ঝড়ে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মেইন লাইন কানাইপুরে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ অনেক জায়গায় দেওয়া এখনও সম্ভব হয়নি। তাছাড়া বোয়ালমারীর জয়পাশা, চাপখন্ড এলাকায় বিদ্যুতের পিলারও পড়ে গেছে। আলফাডাঙ্গারও কয়েকটি জায়গায় বেশ ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের কর্মীরা রাত থেকেই মাঠে কাজ করছে। গাছপালা পড়ে বিদ্যুতের লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে আরও সময় লাগতে পারে।তবে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এস এম নাসির উদ্দিন বলেন, জেলার ৯০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। পিলার ভাঙা বা তার ছেঁড়া এলাকায় রাতেই মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য কাজ চলমান রয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছেফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। 

তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪, ২৭ বৈশাখ ১৪৩১,৩০ শাওয়াল ১৪৪৫


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
🔝