শনিবার ১৫ জুন ২০২৪

পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজারের বিলুপ্ত কস্তুরাঘাট, দুই পাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাসিত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৩ ১০:১৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ
 পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজারের বিলুপ্ত কস্তুরাঘাট, দুই পাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাসিত

পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজারের বিলুপ্ত কস্তুরাঘাট, দুই পাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাসিত

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী,তাজাখবর২৪.কম, কক্সবাজার: নদী খেকুদের থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কস্তুরাঘাট পুনরায় চালু হচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভার বাস্তবায়নে ঘাটটি অত্যাধুনিকভাবে চালু করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কক্সবাজার শহরতলী ও মহেশখালীর দুই পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন পর ঘাটটি চালু হওয়ার খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনেকের মাঝে খুশির বন্যা বইছে। কারণ দীর্ঘদিন পর হলেও তাঁদের বহুদিনের আশা পূরর্ণ হচ্ছে।
অপরদিকে গণমাধ্যম দেওয়া এক সাক্ষাকারে বর্ষা মৌসুম শেষে বদরমোকাম এলাকা থেকে বাঁকখালী নদীর খনন কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার জন্ম থেকে এই ফেরি ঘাটটি দেখছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাঁকখালী নদী খনন কার্যক্রম শুরু হবে। শিগগিরই একটি আধুনিক জেটি নির্মাণ করা হবে।”

অনেকে বলছেন এই নদীর অবস্থা ঢাকার বুড়িগঙ্গার চেয়েও ভয়াবহ। চোখের সামনে ভূমিদস্যুরা নদীর তীর দখল করে নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। তবে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি নদীর জায়গা দখলমুক্ত করায়। এখানে একটি ঘাট ছিল। যেখানে বড় বড় লঞ্চ ও স্টীমার ভিড়ত। ঘাটটি চালু হলে নদী ফিরে পারে তাঁর পুরোনো রূপ।

জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় বন্ধ হয়ে যায় কক্সবাজার-মহেশখালীর একমাত্র নৌপথ এই ঘাট। ওই সময় ষড়যন্ত্র করে চক্রটি শহরের নতুন বাহারছড়ার বাঁকখালী পয়েন্টে ঘাটটি স্থানান্তর করে। সেই থেকে বন্ধ হয়ে যায় কস্তুরাঘাট। ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ লুপে নেয় দখলবাজ চক্র। চক্রটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করার অপচেষ্টায় মেতে উঠে। এতে সফলও হয় তাঁরা। নদীর কুল ঘেঁষে জেগে উঠা প্যারাবন নির্বিচারে নিধন করে ভরাট করা হয়। ভরাটের পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে দখলবাজ চক্রের সদস্যরা নদীর জায়গা প্লট আকারে বিক্রি শুরু করে। ধীরে ধীরে দুই তীর দখল করে গড়ে উঠে চিংড়িঘের, লবণমাঠ, পোলট্রি খামার, চাল ও ময়দার মিল, ঘরবাড়ি-দোকানপাটসহ কয়েক শ স্থাপনা। অবৈধ দখলদারের কবলে পড়ে স্রোতস্বিনী এ বাঁকখালী নদী হারিয়েছে তার পুরনো ঐতিহ্য আর নাব্যতা। তবে জেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় দখলমুক্ত হয়েছে নদীর জায়গা।
অপরদিকে নতুন বাহারছড়া পয়েন্টের ঘাটটি জেলা প্রশাসনের স্থানীয় মন্ত্রণালয় শাখার মাধ্যমে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এভাবে চলছে। জেলা প্রশাসনের লোকজন এই প্রক্রিয়া দেখাশোনা করছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানী ও ভোগান্তি পোহাচ্ছে দু’পাড়ের মানুষ। অবশেষে কস্তুরা ঘাট পুনরায় চালুর উদ্যোগের খবরে স্বস্তি ফিরেছে দুই পাড়ের মানুষের মাঝে। ঘাটটি নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব সাংবাদিক এইচ,এম নজরুল ইসলাম বলেন, “শৈশব থেকে দেখেছি বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট এলাকায় যাত্রীবাহি বড় বড় লঞ্চ-স্টীমার ভীড় করতে। জোয়ারের সময় পানি শহরের বাজারঘাটায় ঢুকে পড়ত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নৌপথে প্রতিদিনই যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের যাতায়াত ছিল লক্ষনীয়। নদীকে কেন্দ্র করে একসময় গড়ে উঠেছিল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু হঠাৎ ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দখল উৎসবে মেতে উঠে দখলবাজ চক্র। ঐতিহ্যবাহী ঘাটটি আবারও চালু করার উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
পাশাপাশি পর্যটনের নতুন দুয়ার খুলবে। এছাড়া বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩,০৬ আশ্বিন ১৪৩০,০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
🔝