আপলোড তারিখ : 2020-11-19
বরগুনায় বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি পেশ
বরগুনায় বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি পেশএম আর অভি,তাজাখবর২৪.কম,বরগুনা প্রতিনিধি: দেশের অধস্তন আদালতের কর্মচারীদেরকে জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন ভাতা প্রদান, বøক পদ বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী পদ সৃজন ও পদোন্নতির সুযোগ রেখে অভিন্ন নিয়োগ বিধি প্রণয়ন এর তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেছেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন বরগুনা জেলা শাখা।
১৮ নভেম্বর বুধবার দুপুর দেড়টায় বরগুনা  জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এর হাতে এ স্মারকলিপি  তুলে দেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মো.আব্দুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মুহা: মাসুম বিল্লাহ।
এসময় অরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন বরগুনা জেলা শাখা। সহ-সভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম,অর্থ-সম্পাদক মো.বদরুল হাসানসহ সংগঠনের অন্যন্যা নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ  করেন, আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় অধস্তন আদালতে কর্মরত বিচার সহায়ক কর্মচারী। বিচার বিভাগের কর্মচারী হওয়া সত্বেও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয় কিংবা উচ্চ আদালতের কর্মচারীদের ন্যায় সুযোগ সুবিধা প্রদান না করে আমাদেরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিচার বিভাগ ১ নভেম্বর, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে নির্বাহী বিভাগ হতে পৃথকীকরণ হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সদাশয় সরকার কর্তৃক মাননীয় বিচারকদের জন্য “বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল” নামে একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদান করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমরা একই দপ্তরে/ আদালতে বিচার কার্যে মাননীয় বিচারক মহোদয়গণের সহায়ক কর্মচারী হিসেবে কর্ম সম্পাদন করা সত্বেও স্বতন্ত্র বেতন স্কেলসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত। এছাড়াও আমরা বিচার বিভাগে চাকুরী করা সত্তে¡ও জনপ্রশাসনের কর্মচারী হিসেবে আমাদের পরিচিতি চরম বঞ্চনা ও পীড়াদায়ক। পক্ষান্তরে, মাননীয় বিচারকগণ স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর পাশাপাশি দেওয়ানী আদালতের অবকাশকালীন সময়ে (ডিসেম্বর মাস) ফৌজদারী আদালতে দায়িত্ব পালন করার জন্য এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমান বেতন প্রাপ্ত হন এবং প্রতি মাসেই বিচারিক ভাতা হিসাবে মূল বেতনের ৩০% প্রাপ্ত হন। চৌকি আদালতের বিচারক চৌকি ভাতা প্রাপ্ত হন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারীগণকে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল এর অন্তর্ভুক্ত না করায় আমরা সকল প্রকার ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আদালতের মাননীয় বিচারকবৃন্দ বিচার কাজ করেন, অধীনস্থ কর্মচারীগণ বিচারকের বিচার কাজে সহায়তা করেন। আদালতের বিভিন্ন বিভাগ/শাখার ব্যবস্থাপনা ও তত্ত¡াবধান সহ আদালতের আদেশ মোতাবেক অন্যান্য কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে অধীনস্থ কর্মচারীগণ বিচার বিভাগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আদালতের কর্মচারীরা বিচারিক কাজের অতি আবশ্যক সহায়ক কর্মচারী। বিচারাঙ্গনে মামলা বৃদ্ধির ফলে মাননীয় বিচারকগণ যেমন কাজের ভারে ভারাক্রান্ত, তেমনি কর্মচারীরাও দিন দিন অধিক কাজের চাপে ভারাক্রান্ত। সরকারের অন্য যে কোন বিভাগের চেয়ে বিচার বিভাগের কর্মচারীগণ অধিক পরিশ্রম করেন, তা যে কোন বিবেকবান মানুষ দেশের আদালতে গিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যবেক্ষন করলে বুঝতে পারবেন। ব্যাংকের মত এখানেও প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন  শেষ করতে হয়। আদালতে কোর্ট ডায়রী, কজলিস্ট ও ডিউটিলিস্ট সিস্টেম আছে, তাতে দিনের ধার্য মামলাগুলোর প্রতিটিতেই যেমন আদালত কর্তৃক আদেশ করতে হয়, তেমনি কর্মচারীদেরকেও ঐ আদেশ অনুসারে  প্রতিটি  নথির প্রয়োজনীয় কার্য শেষ করতে রাত অবধি এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। আদালতের একটি মামলা দায়ের থেকে শুরু করে নিষ্পত্তি পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে অপরিহার্য ভাবে বিধিবদ্ধ কর্ম সম্পাদন করতে হয়। আদালতের একজন সহায়ক কর্মচারী হিসেবে বিচার কাজে সহায়তা করাসহ আমানতদারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যস্ত থাকে। উপরন্তু সততা, নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা, দ্বায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সাথে কার্য সম্পাদন করেন। ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারী সকলেই আপ্যায়ন ভাতা সহ পদোন্নতি ও যাবতীয় সুবিধা সমহারে পেয়ে থাকেন। পুলিশ বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল এবং অফিসারগণ সকলেই ৩০% ঝুকি ভাতা, রেশন, পদোন্নতিসহ যাবতীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আদালতের কর্মচারীগণ সমাজে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন কিন্তু বেশীরভাগ কর্মচারীরা-ই আর্থিকভাবে মানবেতর জীবন যাপন করে থাকেন। এক সময় আদালতের উচ্চমান সহকারী (সেরেস্তাদার) এমন মর্যাদা পেতেন তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্যও হতে পারতেন। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ের জাতীয় বেতন স্কেল পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বর্তমানের কিছু সংখ্যক দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ যেমন-উপ সহকারী প্রকৌশলী, অডিটর, সরকারী মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক’দের বেতন স্কেল সেরেস্তাদারদের নীচে ছিল, যা বর্তমানে সেরেস্তাদারদের বেতন স্কেলের দ্বিগুন। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পিতা জনাব শেখ লুৎফর রহমান সাহেব, একজন সেরেস্তাদার ছিলেন এবং তিনি গোপালগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারী ছিলেন। যা বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন। বর্তমানে জনকল্যাণের স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন কর্ম পরিধি বৃদ্ধির ফলে অনেক নতুন নতুন বিভাগ সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত বিভাগ সমূহের অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারীদেরকেও দ্বিতীয় কিংবা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যেমন-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান/সহকারী শিক্ষক, খাদ্য পরিদর্শক, পুলিশের উপ-পরিদর্শক, নার্স, বøক সুপারভাইজার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। জেলা-রেজিষ্ট্রার এর কার্যালয়ে কর্মরত মাধ্যমিক পাস উচ্চমান সহকারী/প্রধান সহকারীগণকে তৃতীয় শ্রেণী থেকে সরাসরি প্রথম শ্রেণীর সাব-রেজিষ্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উচ্চ মাধ্যমিক পাস যোগ্যতা সম্পন্ন তহশিলদারদের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা করা হয়েছে। বিচার বিভাগের কর্মচারীদের পদোন্নতির যেটুকু ব্যবস্থা আছে, তার চেয়ে বøক পদের সংখ্যাই বেশী। আবার যাদের পদোন্নতির সুযোগ আছে তাও অতি নগন্য, তাদের দীর্ঘ ২০-২২ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে প্রনোদনার অভাবে তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলে নতুবা পদোন্নতির পূর্বেই চাকুরীর বয়সসীমা শেষ হয়ে যায় কিংবা মৃত্যুবরণও করে থাকে।
তারা স্মারকলিপির মাধ্যমে উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বর্তমান জনবান্ধব সরকারের নিকট আমাদের নিম্মোক্ত দাবীসমূহ উপস্থাপন করছিঃ ১। অধস্তন আদালতের কর্মচারীদেরকে বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসাবে গণ্য করতঃ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন ভাতা প্রদান। ২। সকল বøক পদ বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী পদ সৃজন পূর্বক হাইকোর্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের ন্যায় যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতি ০৫ বৎসর অন্তর পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ব্যবস্থা করা। ৩। অধস্তন সকল আদালতের কর্মচারীদের নিয়োগ বিধি সংশোধন করতঃ এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন এর তিন দফা দাবি জানায়।

তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৩ রবিউস সানি ১৪৪২


এই বিভাগের আরো সংবাদ

advertisement

 
                              
                                                  
                                             সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আর কে ফারুকী নজরুল, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
এই ঠিকানা থেকে সম্পাদক কায়সার হাসান কর্তৃক প্রকাশিত।
কপিরাইটর্স ২০১৩: taazakhobor24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৮১৮১২০৯০৮, ০১৯১২৪৬৩৪৭০
ইমু: ০১৯১০৭৭৪৫৫৯, ই-মেইল: [email protected]
facebook: taaza khobor, You tube:Taaza khobor Tv

সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০